Category: জাতীয় Published on Thursday, 10 May 2012 07:31
তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না : দীপু মনি

টাইমস্ আই বেঙ্গলী (১০ মে, ২০১২) : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের প্রস্তাবিত চুক্তি আপাতত হচ্ছে না বলে জানা যাচ্ছে। ভারত সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র বিবিসিকে বলেছে, এই খবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকে ভারত সরকারের তরফে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ভারতের শরিকি রাজনীতির কারণেই আপাতত এই চুক্তি করা যাচ্ছে না বলে সূত্রটি বলছে। আর এই চুক্তি না হলে, ভবিষ্যতে ভারত বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবে না বলে জানিয়ে সূত্রটি বলে, মিয়ানমার কালাদান নদীর ভিতর দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম রাজ্যকে সংযোগের কাজে হাত দেয়া হয়েছে। “এতে ভারতের খরচ বাড়বে, কিন্তু এছাড়া কোনো রাস্তা নেই,” বলে সূত্রটি জানায়। তবে সুদূর ভবিষ্যতে তিস্তা চুক্তি হতে পারে কি না তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি সূত্রটি।
'শরিকদের সম্মতি ছাড়া চুক্তি সম্ভব নয়'
ভারত সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র - যিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল- তিনি জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে বলে ভারত আর মনে করছে না।
বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবং বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে বলে মন্তব্য করে ওই সূত্রটি জানায়, নানা কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসন্তুষ্ট করা আর সম্ভব নয়।
সূত্র বলছে, “আর শরিকদের সম্মতি ছাড়া চুক্তি করাও সম্ভব নয়।”
সম্প্রতি ভারত সফরের সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় ভারতের প্রচারমাধ্যমকে বলেছেন তিস্তা চুক্তি না হলে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘প্রবলভাবে ধাক্কা খাবে’।
পর্যবেক্ষকদের অভিমত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতো কড়া ভাষায় কথা বলেছেন কারণ তাকে জানানো হয়েছে, তিস্তা চুক্তি আপাতত করা সম্ভব নয়। সরকারি সূত্রের বক্তব্য দীপু মনি খানিকটা জোরালো মন্তব্য করা স্বাভাবিক।
“অবশ্যই এর ফলে সম্পর্ক ধাক্কা খেলো। কিন্তু যেখানে ভারতে সরকার টিকিয়ে রাখাটা সবচেয়ে জরুরি, সেখানে আর কিই বা করার আছে?” প্রশ্ন ওই অফিসারের।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা গত সোমবার কার্যত স্বীকার করে নেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ শরিকি রাজনীতিই কারণেই জন্যে চুক্তি করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “আমরা একটি রাজনৈতিক একমত্য তৈরির চেষ্টা করছি, যাতে সবার সমান অংশগ্রহণ থাকে।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণেই তিস্তা চুক্তি আটকে গিয়েছে। তিস্তা দিয়ে প্রবাহিত পানি বাংলাদেশকে দিলে উত্তরবঙ্গের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন -এই যুক্তিতে পানি দিতে নারাজ পশ্চিমবঙ্গ। বিষয়টি নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রূদ্রের একটি বিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দেয়ার কথা।
কেন্দ্র সরকারও বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপরে চাপ বাড়াতে ভয় পাচ্ছে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতি ছাড়া অনেক কাজ করা সম্ভব নয়। যেমন কংগ্রেসের পছন্দের রাষ্ট্রপতি, খুচরো বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে সরকার টিকিয়ে রাখা- অনেক কিছুর জন্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে নির্ভরশীল ইউপিএ সরকার।
বাংলাদেশ পর্যবেক্ষকদের অভিমত, ধারাবাহিকভাবে রাজ্যস্তরের নির্বাচনে হারতে থাকা কংগ্রেস এই মুহুর্তে তিন্তা ইস্যুতে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর চটাতে চায় না।
বাংলাদেশের নির্বাচন আরো কাছাকাছি এলে আরো একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন করে কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সাংসদরা অবশ্য মনে করছেন এতে আখেরে ক্ষতি হবে পূর্ব ভারতের। তৃণমূল কংগ্রেসের এক সাংসদ বলেন, “উত্তর-পূর্ব ভারত অশান্ত হলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা হবে সবার আগে। আর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্ষতি হলে সেটাই হবে। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানো দরকার। কিন্তু বোঝাবে কে?”
তিস্তার সাথে ট্রানজিট
তিস্তা চুক্তি না হলে ভারতও মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে যোগাযোগের জন্যে বাংলাদেশের জমি ব্যবহার করার সুবিধা পবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীপু মনি বলেন সোমবার বলেন, “সাসটেনেবল প্রক্রিয়ায় কাজটি করতে হবে। আমরা আশাবাদী।” কিন্তু তার মন্তব্যে মনে হয়নি যে কাজ সত্যিই এগোচ্ছে।
ভারতের সরকারি সূত্রটি জানিয়েছে, ট্রনিজিটের জন্যে যে পরিকাঠামোর প্রয়োজন বাংলাদেশে তার কাজ কিছুই হয়নি। বিষয়টি মাথায় রেখে, ভারত ধরেই নিয়েছে যে আপাতত ট্রনিজিটের সুবিধা তারা পাচ্ছে না।
“সেই কারণেই ভারত জোর দিচ্ছে কালাদান মাল্টি মোডাল প্রকল্পের উপরে। এটিকে বিকল্প ট্রনিজিট রুট হিসাবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এটি স্বল্প সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনও করা হবে। বাংলাদেশও প্রকল্পটির উপরে নজর রাখছে,” বক্তব্য সূত্রটির।
মিয়ানমার কালাদান নদী ও জমিকে ব্যবহার করে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামকে জোড়ার কাজ করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
এই প্রকল্পের কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও, বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ট্রনিজিট পাওয়ার আসাতেই কালাদান প্রকল্পের কাজ কিছুটা ধীর গতিতে হচ্ছিলো। কিন্তু এখন কালাদান প্রকল্পের আনার গতি আনার চেষ্টা হচ্ছে।
সূত্রটি বলছে, “কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে।”
সম্প্রতি মিয়ানমার রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ভারতে এসে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে গিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমার কিভাবে লাভবান হবে তাদের তা বোঝানো হয়েছে।
তবে এই প্রকল্প পরিবেশ এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রকল্পের বিরোধীরা মনে করছেন। ২০১৪ সালের মধ্যে কালাদান প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: বার্তা২৪ ডটনেট ও বিবিসি।
Last Updated on Thursday, 10 May 2012 07:35
Hits: 131